মিউসিসকে হ্রাস বিভাজন বলা হয় কেন?
### মিয়োসিসের হ্রাস বিভাজনের কারণসমূহ
1. ক্রোমোসোম সংখ্যার হ্রাস:
- মিয়োসিস বিভাজনের পরে প্রতিটি হ্যাপ্লয়েড কোষে মূল ডিপ্লয়েড কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। উদাহরণস্বরূপ, মানুষের দেহ কোষে ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে, কিন্তু মিয়োসিস বিভাজনের ফলে তৈরি কোষগুলো (যেমন, শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) প্রতিটি ২৩টি ক্রোমোসোম ধারণ করে।
2. যৌন জননে বৈচিত্র্য আনয়ন:
- মিয়োসিসের দুটি ধাপের (মিয়োসিস I এবং মিয়োসিস II) মধ্যে **ক্রসিং ওভার এবং স্বাধীনভাবে ক্রোমোসোম বিন্যাস** হওয়ার কারণে প্রতিটি কোষে ভিন্ন জেনেটিক বৈচিত্র্য আসে। ফলে, যৌন জননকারী জীবদের মধ্যে জেনেটিক বৈচিত্র্য তৈরি হয়, যা প্রাকৃতিক নির্বাচনে সহায়তা করে।
3. ডিপ্লয়েড কোষের গঠন বজায় রাখা:
- মিয়োসিসের ফলে হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি হয়, এবং এই হ্যাপ্লয়েড কোষ দুটি একত্রিত হয়ে একটি নতুন ডিপ্লয়েড জীবের জন্ম দেয়। এর ফলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ক্রোমোসোম সংখ্যা স্থিতিশীল থাকে এবং প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটে না।
### মিয়োসিসের ধাপসমূহ
মিয়োসিস দুইটি প্রধান ধাপে বিভক্ত:
মিয়োসিস I: যেখানে ক্রোমোসোমের সংখ্যা হ্রাস পায়। এখানে ক্রোমোসোম সমূহ পৃথক হয়ে দুটি পৃথক কোষে বিভাজিত হয়।
মিয়োসিস II: প্রতিটি কোষে ক্রোমাটিড আলাদা হয়ে আরও দুটি কোষে বিভাজিত হয়, ফলে মোট চারটি হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি হয়।
সারসংক্ষেপে-, মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন বলা হয় কারণ এটি কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক করে হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি করে, যা যৌন জননের মাধ্যমে ডিপ্লয়েড অবস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

Post a Comment