এই আন্দোলনটি মূলত তিনটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছিল, যা থেকে এর নামকরণ করা হয় "ত্রি-শক্তি সংগ্রাম"। এগুলো হলো:
1. কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (সিপিএন) - যারা সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল।
2. নেপাল ছাত্র আন্দোলন - যারা ছাত্রদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছিল।
3. কৃষক সংগ্রাম - যারা কৃষকদের অধিকার এবং জমি সংস্কারের জন্য লড়াই করছিল।
### ত্রি-শক্তি সংগ্রামের কারণ ও পটভূমি
নেপালে ১৯৫১ সালে রানা শাসনের অবসানের পর রাজতন্ত্র চালু হয়। কিন্তু এতে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন ঘটেনি। রাজতন্ত্র ও সামন্তপ্রথার অত্যাচারে সাধারণ মানুষ, বিশেষত কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণি, শোষিত হচ্ছিল। রাজতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা জনগণের মৌলিক অধিকার, শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করছিল। ফলে সমাজের বিভিন্ন অংশে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, যা ত্রি-শক্তি সংগ্রামের রূপ নেয়।
### সংগ্রামের ধরণ ও কার্যক্রম
ত্রি-শক্তি সংগ্রাম ছিল ব্যাপক গণআন্দোলনের মতো, যা সামরিক বা সশস্ত্র সংঘর্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়নি বরং গণজাগরণের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা জাগ্রত করার চেষ্টা করেছে। আন্দোলনকারীরা গণসংযোগ, শিক্ষাবিস্তারে প্রচার এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালায়। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, প্রতিবাদ, এবং রাজনৈতিক সভা আয়োজন করা হয়, যাতে করে জনগণের দাবি ও অধিকারের কথা তুলে ধরা যায়।
### ত্রি-শক্তি সংগ্রামের ফলাফল ও প্রভাব
ত্রি-শক্তি সংগ্রামের সরাসরি রাজনৈতিক সফলতা না এলেও এটি নেপালের জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সংগ্রামের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অংশ বিশেষত তরুণ এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাজতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হয় এবং গণতন্ত্রের দাবিতে আরও সংগঠিত হতে শুরু করে।
পরে, নেপালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯০ সালে আরেকটি বৃহৎ গণঅভ্যুত্থান ঘটে, যা নেপালের রাজতন্ত্রের অবসানের পথ প্রশস্ত করে এবং দেশের নতুন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গঠনে ভূমিকা রাখে।ৃ
.jpeg)
Post a Comment